
রাজশাহীতে তাপদাহে পুড়ছে বিপর্যস্ত জনজীবন, স্বস্তির খোঁজে মানুষ।
শাহাদাত হোসেন
রাজশাহী
তীব্র তাপদাহে পুড়ছে পদ্মাপাড়ের শহর রাজশাহী। গত কয়েকদিন ধরেই এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ। আকাশ থেকে যেন ঝরছে আগুনের ফুলকি। কাঠফাটা রোদ আর অসহ্য গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। রেকর্ড তাপমাত্রা ও আবহাওয়া পরিস্থিতি রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহে রাজশাহীর তাপমাত্রা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে গরমের অনুভূতি অনেক বেশি তীব্র হচ্ছে। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে পিচঢালা পথগুলো যেন একেকটি জ্বলন্ত চুল্লিতে পরিণত হচ্ছে। জনজীবনে স্থবিরতা ও শ্রমজীবীদের হাহাকার
তীব্র গরমের কারণে দুপুরের দিকে শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও ভ্যানচালকেরা।
শহরের রেলগেট এলাকায় এক রিকশাচালক জানান:
”গরমে রিকশার সিটে বসা যাচ্ছে না। আধা ঘণ্টা রিকশা চালালেই শরীর ছেড়ে দিচ্ছে। কিন্তু পেট তো আর গরম বোঝে না, তাই বাধ্য হয়েই এই রোদে বের হতে হয়েছে।”
কৃষিখাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আম ও লিচুর রাজধানী খ্যাত রাজশাহীতে তীব্র রোদের কারণে আগাম জাতের লিচু ও আম ঝরে পড়ার আশঙ্কা করছেন বাগান মালিকেরা।
প্রচণ্ড গরমে রাজশাহীতে ডায়রিয়া, জন্ডিস, পানিশূন্যতা এবং হিটস্ট্রোকের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে শত শত রোগী গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসকেরা শিশু ও বৃদ্ধদের এই সময়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
তীব্র তাপদাহ থেকে বাঁচতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:
প্রচুর পানি পান: শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার নিরাপদ পানি বা স্যালাইন পান করতে হবে।
রোদে বের হওয়া পরিহার: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলাই ভালো।
প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা: বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা, টুপি, সানগ্লাস এবং সুতি হালকা পোশাক ব্যবহার করতে হবে।
বাসি খাবার বর্জন: এই গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, তাই বাসি ও রাস্তার খোলা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।