
মেলা বন্ধ, প্রশ্নের ঝড়: আবার কি মাদকের ছোবলে ভাঙ্গুড়া?
কার স্বার্থে থামল ঈদের আনন্দ? ক্ষুব্ধ ভাঙ্গুড়াবাসী
হাসি থামল মাঠে, জাগল জনমনে ক্ষোভ; সাংস্কৃতিক শূন্যতা নিয়ে উদ্বিগ্ন সচেতন মহল
নিজস্ব প্রতিনিধি :- মোঃ গোলাম মোস্তফা
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ঈদ আনন্দমেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও নানা প্রশ্ন। যে মেলাকে ঘিরে ঈদের ছুটিতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, শিশু-কিশোর ও তরুণদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল ঐতিহাসিক বড়াল ব্রিজ সংলগ্ন মাঠ, সেই প্রাণবন্ত আয়োজন হঠাৎ থেমে যাওয়ায় এলাকাবাসীর কণ্ঠে এখন একটাই প্রশ্ন—কার স্বার্থে বন্ধ করা হলো সাধারণ মানুষের এই আনন্দের উৎসব?
স্থানীয়দের মতে, ঈদ আনন্দমেলা শুধু একটি বিনোদনমূলক আয়োজন ছিল না; এটি ছিল সামাজিক সম্প্রীতি, পারিবারিক বন্ধন এবং সাংস্কৃতিক চর্চার এক অনন্য মিলনমেলা। প্রতিদিন হাজারো মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করছিলেন। শিশুদের হাসি, তরুণদের উচ্ছ্বাস এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
কিন্তু মেলা বন্ধ হওয়ার পর সেই আনন্দের জায়গায় নেমে এসেছে হতাশা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, যখন সমাজ মাদক, কিশোর গ্যাং, চুরি-ছিনতাই ও নানা সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে, তখন যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখার এমন একটি উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে।
একাধিক অভিভাবক জানান, সন্তানদের মোবাইল আসক্তি, মাদক ও নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে রাখতে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আয়োজনের বিকল্প নেই। ঈদ আনন্দমেলা সেই সুযোগ তৈরি করেছিল। এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই শূন্যতা পূরণ করবে কে?
সচেতন মহলের মতে, একটি সমাজকে শুধু আইন-শৃঙ্খলা দিয়ে নয়, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমেও সুস্থ পথে পরিচালিত করতে হয়। ভাঙ্গুড়ার ঈদ আনন্দমেলা ঠিক সেই ইতিবাচক ভূমিকাই পালন করছিল। ফলে আয়োজনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মানবিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করবে। কারণ একটি প্রাণবন্ত সমাজ গঠনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই।
জনমনে উচ্চারিত প্রশ্ন
যে মেলা মানুষকে এক করেছে,
যে মেলা তরুণদের মাঠে এনেছে,
যে মেলা পরিবারকে আনন্দ দিয়েছে,
সেই মেলা বন্ধ করে সমাজ কী পেল?
ঈদ আনন্দমেলা বন্ধের ঘটনাটি এখন শুধু একটি আয়োজন বন্ধ হওয়ার বিষয় নয়; এটি ভাঙ্গুড়ার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগের প্রতিচ্ছবি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—সকল পক্ষের সমন্বয়ে দ্রুত একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসুক এবং ভাঙ্গুড়া আবার ফিরে পাক তার আনন্দ, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা।
“মেলা বন্ধ, কিন্তু প্রশ্ন বন্ধ নয়”
“যেখানে তরুণরা মাঠে ফিরছিল, পরিবারগুলো একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছিল, সেখানে আনন্দের সেই প্ল্যাটফর্ম হঠাৎ থেমে যাওয়ায় ভাঙ্গুড়াবাসী জানতে চায় সিদ্ধান্তটি কাদের স্বার্থে এবং এর সামাজিক প্রভাবের দায় নেবে কে?”