
রাজশাহীর লাউ যাচ্ছে দেশজুড়ে, হাতবদলেই দাম বাড়ে ১০ গুণ।
সেলিম রেজা
রাজশাহী
ঈদুল আজহার পরপরই রাজশাহীতে লাউয়ের দামে চরম ধস নেমেছে। উপজেলার পাকা-কাঁচা সড়কের মোড়ে মোড়ে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা দরে। অথচ এই লাউ-ই হাতবদল হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছানো মাত্র দাম বেড়ে যাচ্ছে ১০ গুণেরও বেশি। ফলে মধ্যস্বত্বভোগী ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মোটা অঙ্কের মুনাফা করলেও উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। চাষিরা জানান, ঈদের আগে প্রতি পিস লাউ তারা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু ঈদের মাত্র দুই-তিন দিনের ব্যবধানে সেই লাউ এখন মাত্র ৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এই দামে লাউ বিক্রি করলে খেতের উৎপাদন খরচই উঠবে না বলে জানান তারা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলায় লাউয়ের রেকর্ড পরিমাণ ফলন হয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত লাউ প্রতিদিন গ্রামীণ সড়কে ও রাস্তার মোড়ে পসরা সাজিয়ে কেনাবেচা হচ্ছে। সেখান থেকে পাইকাররা ট্রাকে করে এই লাউ সারা দেশে সরবরাহ করছেন।অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রত্যন্ত গ্রামের চাষিদের কাছ থেকে ঈদের অজুহাতে নামমাত্র মূল্যে লাউ কিনলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খুচরা বাজারে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের ঠকাচ্ছেন এবং দূর-দূরান্তে পাঠিয়ে ১০ গুণেরও বেশি লাভ করছেন। দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা ইমরান আলী মুঠোফোনে বলেন, ঈদের ছুটি শেষে শনিবার চাকরির সুবাদে গ্রামের বাড়ি থেকে নরসিংদী চলে এসেছি। আসার সময় দেখলাম আমাদের বাড়ির সামনের মোড়ে ব্যবসায়ীরা মাত্র ৫ টাকা পিস দরে লাউ কিনছে। আর আজ নরসিংদীর বাজারে এসে দেখি সেই রাজশাহীর লাউ-ই ৬৫ থেকে ৭০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে! ব্যবসায়ীরা একেকটি লাউয়ে ১০ গুণের বেশি লাভ করছে। এভাবে গ্রাম ও শহরের মধ্যে সবজির দামের বিশাল ফারাক তৈরি করা হচ্ছে। লোকসানের আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লাউচাষি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমার ১৫ কাঠা জমির মাচায় প্রচুর লাউ এসেছে। সবেমাত্র বিক্রি শুরু করেছি। প্রথম দিনেই ৪০ পিস লাউ ৩২ টাকা দরে বিক্রি করেছিলাম। কিন্তু ঈদের পর হুট করে দাম পড়ে গেল। এমন দাম থাকলে এবার লাউ চাষে ব্যাপক লোকসান গুণতে হবে। জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে অনেক সময় গ্রাম ও শহরের মধ্যে সবজির দামে বিশাল ফারাক তৈরি হয়। এ বিষয়ে আমরা নিয়মিত সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে রিপোর্ট পাঠাই।