1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
  2. dailymuktobhor24@gmail.com : dailymuktobhor24 :
ভরা মৌসুমেও পেঁয়াজে ধস—নাটোরে কৃষকের চোখে জল, খরচই উঠছে না - dailymuktobhor24
৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| সোমবার| রাত ১২:১৯|
শিরোনামঃ
আএাইতে পুলিশের মাদকবিরোধি অভিযান:৷ জনহয়রানি ও চাঁদামুক্ত দলিল রেজিস্ট্রি’র প্রত্যয়: পবার নবগঠিত কমিটি ধামইরহাটে দোকান চুরির ঘটনায় দুই কুখ্যাত চোর গ্রেফতার। রাজশাহীতে উদ্ধারকৃত ১২ বছরের শিশু আঁখির অভিভাবকদের সন্ধান চায় পুলিশ রাজশাহী বোয়ালিয়া থানার অভিযানে নারীসহ দুই মাদক ব্যাবসায়ী গ্রেফতার । একজন আইনজীবীকে সব বিষয়ে সম্যক ধারণা রাখতে হবে: এমপি মিলন। রেলওয়ে জমি দখল করে পুনরায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুরগি ড্রেসিং করা হয়,একই ড্রামের ভিতর। যশোরে ৬২০০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার। রেলওয়ে জমি দখল করে পুনরায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ।

ভরা মৌসুমেও পেঁয়াজে ধস—নাটোরে কৃষকের চোখে জল, খরচই উঠছে না

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, মে ২, ২০২৬,
  • 67 Time View

ভরা মৌসুমেও পেঁয়াজে ধস—নাটোরে কৃষকের চোখে জল, খরচই উঠছে না

মোঃ সুজন মাহমুদ, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

নাটোরে ভরা মৌসুমেও পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা আর হতাশা ঘিরে ধরেছে চাষিদের। বিশেষ করে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি এবং সংরক্ষণ সুবিধার অভাবকে দায়ী করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে পেঁয়াজ সাইজভেদে প্রতি মণ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করেও সেই তুলনায় কোনো লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠছে না অনেকের।

বড়াইগ্রাম উপজেলার বাগডোব গ্রামের কৃষক মোঃ আশরাফুল ইসলাম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমরা দিন-রাত পরিশ্রম করে পেঁয়াজ ফলাই, কিন্তু এখন বাজারে এনে যেন নিজের পরিশ্রমকেই বিক্রি করে দিচ্ছি। ৬০০-৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করে খরচের অর্ধেকও উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের চাষাবাদই বন্ধ হয়ে যাবে।”

অন্যদিকে গুরুদাসপুর উপজেলার কৃষক বিমল কুমার জানান, “বর্গা জমি নিতে হয়েছে ৪০ হাজার টাকায়। বীজ, সার, কীটনাশক—সবকিছুর দাম বেড়েছে। বিঘা প্রতি খরচ ৫০ হাজার টাকার বেশি। কিন্তু ফলন পেয়েও লাভ নেই, বাজারে দাম নেই। পরিবহন খরচ বাদ দিলে হাতে কিছুই থাকছে না, বরং ঋণের বোঝা বাড়ছে।”

কৃষকদের এই দুরবস্থার বিষয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সজিব আল মারুফ বলেন, “আমরা কৃষকদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তারা যেন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে ভালো দামে বিক্রি করতে পারেন, সে জন্য পরামর্শ দিচ্ছি এবং পচন রোধে সহায়ক কিছু উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও সমন্বয় প্রয়োজন।”

এদিকে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, “চলতি মৌসুমে জেলায় ৭৩০৪ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন। তবে মৌসুমের আগে বৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা উৎপাদন কমেছে। তার ওপর আমদানির প্রভাব ও সংরক্ষণ সংকট—সব মিলিয়ে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।”

সংরক্ষণ সুবিধার অভাবকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যান্য জেলায় হিমাগার বা আধুনিক স্টোরেজ থাকলেও নাটোরে তা না থাকায় কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে মৌসুম শেষে দাম বাড়লেও সেই সুফল পাচ্ছেন না প্রকৃত চাষিরা।

সব মিলিয়ে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজারে দরপতন ও সংরক্ষণ সংকট—এই ত্রিমুখী চাপে নাটোরের পেঁয়াজ চাষিরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025                    thmes cretaed by bditwork