
রাজশাহীর রেলগেটে ট্রাফিক পুলিশের কাজে বাধা ও সার্জেন্টকে হুমকি: যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ।
রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী মহানগরীর ব্যস্ততম ভদ্রা-রেলগেট এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের চাবি জব্দ করাকে কেন্দ্র করে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট ও সেখানে উপস্থিত একজন শিক্ষকের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘জন’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যিনি নিজেকে যুবদলের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ঘটনার একপর্যায়ে তিনি জোরপূর্বক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী গাড়িটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রেলগেট মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট নিয়মভঙ্গকারী একটি রিকশার চাবি জব্দ করলে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় নিজেকে যুবদলের সদস্য পরিচয় দিয়ে ‘জন’ নামের ওই ব্যক্তি ট্রাফিক পুলিশের ওপর চড়াও হন। তিনি কর্তব্যরত সার্জেন্টকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত উগ্র ভাষায় কথা বলেন এবং সরাসরি দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন।
একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সাইফুল ইসলাম বিষয়টির প্রতিবাদ করলে এবং যুবদল পরিচয়ধারী ওই ব্যক্তিকে শান্ত হতে বললে, জন নামের ওই ব্যক্তি শিক্ষকের সঙ্গেও চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ঘটনার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও ওই ব্যক্তি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের দাপট দেখাতে থাকেন। তিনি কর্তব্যরত পুলিশের সরকারি কাজে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক আইন লঙ্ঘনকারী রিকশা/গাড়িটি পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
ব্যস্ততম এই মোড়ে প্রকাশ্য দিবালোকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য এবং একজন সম্মানিত শিক্ষকের ওপর এমন চড়াও হওয়ার ঘটনায় উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন অমান্য করা এবং পুলিশের ওপর এভাবে চড়াও হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা অনতিবিলম্বে সরকারি কাজে বাধা প্রদানকারী এবং হুমকিদাতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।