
নাটোরে পৈত্রিক সম্পত্তি দখল ও বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর
১০ জুন, ২০২৬
নাটোরের বড়াইগ্রামে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি জোরপূর্বক দখল, বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বড়াইগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানির পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আটঘরিয়া কারিগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত অনিল মাঝির পুত্র হৃদয় (২২) ও তার পরিবার পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে উপজেলার চন্দ্রখৈল মৌজায় মোট ৪ একর ১১ শতাংশ জমির বৈধ মালিক। তবে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার বাসিন্দা মো. সিরাজ (৬০), মো. মেহের (৪৩), মো. বিরাজ (৪৫), মোছা. রেনুকা বেগম (৬৫), মোছা. রনজুফা বেগম (৫০) এবং মোছা. মর্জিনা বেগম (৪৫) সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ওই জমি অবৈধভাবে দখল করে ভোগদখল করে আসছেন।
ভুক্তভোগী হৃদয়ের এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে (ফলা, হাসুয়া, বাঁশের লাঠি) সজ্জিত হয়ে তার বসতবাড়িতে আকস্মিক চড়াও হয়। হামলাকারীরা ভুক্তভোগীর ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বেড়া ও টিনের চালা ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এ সময় জমি দাবি করলে হৃদয় ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে হৃদয় ঘরের ভেতর আত্মগোপন করেন এবং মোবাইল ফোনে বিবাদীদের এই তাণ্ডবের ভিডিও চিত্র ধারণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য:
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা শিলা (৩০) ও মো. রাব্বি (২১) সহ বেশ কয়েকজন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই দিন প্রকাশ্যেই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে বার বার থানায় ডেকেও বিষয়টি মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি। আইনানুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধার এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।