
বকেয়া বেতনের দাবিতে রাজশাহীতে নগর মাতৃসদন কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি।
সেলিম রেজা, রাজশাহী
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও এনজিও ‘নারী মৈত্রী’র যৌথ বাস্তবায়নে পরিচালিত আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের কর্মীরা বকেয়া বেতনের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে নগর মাতৃসদন কেন্দ্রের সামনে ব্যানার নিয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।
আন্দোলনরত কর্মীদের অভিযোগ, গত ১লা জুলাই ২০২৫ইং থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের দাবি, বকেয়া বেতন অবিলম্বে পরিশোধ না করা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
কর্মবিরতি চলাকালে প্রদর্শিত ব্যানারে কর্মীরা উল্লেখ করেন, “বেতন ছাড়া সেবা দেওয়া সম্ভব নয়”।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পের একজন কর্মী তার যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পে কাজ করছি, কিন্তু এমন পরিস্থিতির মুখে কখনো পড়িনি। সাত মাস ধরে বেতন নেই। আমরা যারা সাধারণ কর্মচারী, আমাদের সঞ্চয় বলতে কিছু নেই। এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।”
ওই কর্মী আরও জানান:
ঠিকমতো বাসা ভাড়া দিতে পারছেন না তারা। এমনকি সন্তানদের স্কুলের টিউশন ফি বকেয়া পড়ে যাওয়ায় তাদের পড়াশোনা হুমকির মুখে পড়েছে।
জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে এনজিও থেকে কিস্তি বা চড়া সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করতে না পেরে অনেকে পাওনাদারদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সামনেই পবিত্র রমজান মাস। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে বেতন ছাড়া কীভাবে ইফতার ও সেহরির ব্যবস্থা করবেন, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কর্মীরা।
ভুক্তভোগী কর্মীদের ভাষ্য, “ধার-দেনা করে আর কতদিন চলা যায়? সামনের রমজানের আগে বকেয়া বেতন না পেলে আমাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।”
তারা আরও বলেন, গত সাত মাস ধরে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বেতন পরিশোধের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আরসিসি (পিএ-২) ও নারী মৈত্রীর সকল স্তরের কর্মচারীবৃন্দ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতির ফলে নগর মাতৃসদন কেন্দ্রের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষ যারা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসার জন্য এই কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল, তারা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।
উল্লেখ্য যে, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই প্রকল্পটি নগরবাসীকে স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষে পরিচালিত হয়ে আসছে। কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ করে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম শুরুর পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।