
ঝরে পড়া পচা ও পাকা আম দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে আমতা (আমসত্ত্ব): দেখার কেউ নেই।
সেলিম রেজা
রাজশাহী
বাঘা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের ধারে খোলা আকাশের নিচে অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে আমতা বা আমসত্ত্ব। মহাসড়কের ধুলোবালি ও যানের কালো ধোঁয়ার মাঝেই অবলীলায় চলছে এই খাদ্যপণ্য তৈরির কাজ। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে কোনো নজরদারি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে বাঘা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের পাশে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ঠিক ধারেই বড় বড় মাদুর বা চট বিছিয়ে তার ওপর আমের পাল্প (মণ্ড) মেলে দেওয়া হয়েছে। মহাসড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত দ্রুতগতিতে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। ফলে বাতাসের সাথে উড়ে আসা ধুলোবালি, ধোঁয়া এবং ময়লা-আবর্জনা সরাসরি গিয়ে পড়ছে উন্মুক্ত স্থানে শুকাতে দেওয়া ওই আমতার ওপর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝড়-বৃষ্টিতে গাছ থেকে ঝরে পড়া আধা-পচা, পোকাযুক্ত কিংবা অতিরিক্ত পেকে যাওয়া নিম্নমানের আম সংগ্রহ করে এই আমতা তৈরি করা হচ্ছে। কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি বা ঢাকনা ছাড়াই দিনভর এগুলোকে রোদে শুকানো হয়। খোলা আকাশের নিচে থাকায় মাছি, পোকা-মাকড় ও ধুলোবালি মিশ্রিত এই আমতা পরবর্তীতে বাজারে বিক্রি করা হবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তার পাশে এভাবে নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এগুলো খেলে মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা নানাবিধ পেটের পিড়া ও আমাশয়সহ দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। তারা অবিলম্বে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তারা আরো জানান নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক যদি এসব নিয়মিত হবে ততটুকই করেন তাহলে তারা এই অখাস্থ্যকর পরিবেশে এই আমসত্ত্ব তৈরির কাজ করতে পারবে না। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য খাদ্য পরিদর্শক দেখেও না দেখার ভান করেন। এখানে অর্থের লেনদেন ও থাকতে পারে বলেও তারা অভিযোগ করেন। জনসাধারণের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে এই অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় আমতা তৈরি বন্ধে এবং মহাসড়কের পাশে এমন কর্মকাণ্ড রুখতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।