
রামেক হাসপাতালের রোগীদের পাতে ‘নামমাত্র’ খাবার: মাংসের বদলে মিলছে শুধু ঝোল
মো: শাহাদাত হোসেন
রাজশাহী ব্যুরো
উত্তরবঙ্গের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে এই হাসপাতালের রোগীদের জন্য সরকারিভাবে যে খাবার বরাদ্দ করা হয়, তার মান নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, খাবারের নামে তাদের যা দেওয়া হচ্ছে, তা অনেকটা ‘তামাশা’র মতো। বিশেষ করে মাংসের তরকারিতে মাংসের চেয়ে ঝোলের আধিক্যই বেশি থাকে।
মানহীন খাবার, নিরুপায় রোগী
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, রোগীদের জন্য আনা ব্রয়লার মুরগির তরকারিতে পিস খুঁজে পাওয়া দায়। বাটিতে এক চিলতে মাংসের সাথে দেওয়া হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে পাতলা ঝোল। শুধু মাংস নয়, ডাল এবং সবজির মান নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। চালের মান নিম্নমানের হওয়ায় ভাতও অনেক সময় খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত রোগীরাই এই সরকারি খাবারের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন বলেন, “হাসপাতালের খাবার মুখে তোলা যায় না। কিন্তু বাইরের হোটেলের খাবার কেনার সামর্থ্য নেই, তাই বাধ্য হয়ে এই বিস্বাদ খাবারই খেতে হচ্ছে।”
প্রতিবাদের সাহস পান না কেউ
ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, খাবারের মান নিয়ে কোনো কথা বললে বা প্রতিবাদ করলে হাসপাতালের কর্মীদের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়। অনেক সময় যথাযথ সেবা না পাওয়ার ভয়ে রোগীরা মুখ বুজে সহ্য করেন। যারা সচ্ছল, তারা বাইরে থেকে খাবার কিনে আনলেও সাধারণ রোগীদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত বাজেটে বর্তমান বাজারদরের সাথে তাল মিলিয়ে মানসম্মত খাবার পরিবেশন করা চ্যালেঞ্জিং। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, বাজেট যা-ই হোক না কেন, খাবারের এই চরম নিম্নমান এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উন্নত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে খাবারের মানের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। রামেক হাসপাতালের খাবারের এই বেহাল দশা নিরসনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা।