
রাজশাহী তানোর বিলকুমারী সেতুর সংযোগ সড়ক: ১৩ বছরেও মেলেনি পাকা রাস্তা।
শাহাদাত হোসেন
রাজশাহী
রাজশাহীর তানোরে বিলকুমারী বিলের ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কটি দীর্ঘ ১৩ বছরেও পাকাকরণ করা হয়নি। সড়কের ইট-সলিং ও হেডিং বন্ডের ইট উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী ও চালকরা। সড়কটি বেহাল পড়ে থাকায় ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারছে না, ফলে এই অঞ্চলের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও পর্যটনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, তানোর গোল্লাপাড়া বাজার থেকে সেতু পর্যন্ত এবং সেতু থেকে মোহনপুর সীমানার বাঁধ পর্যন্ত ইট-সলিং করা রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য। মোহনপুর সীমানা থেকে সইপাড়া পর্যন্ত রাস্তাটি পাকাকরণ করা হলেও তানোর অংশের রাস্তাটি এখনো অবহেলিত। ফলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে সেতুটি নির্মিত হয়েছিল, রাস্তার কারণে তার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুই উপজেলার লাখো মানুষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়কটি সংস্কারের নামে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। প্রতিবছর বন্যার পানিতে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নামমাত্র সংস্কার করা হয়। তবে গত দুই বছর ধরে বড় কোনো ভাঙন না দেখা দিলেও রাস্তাটি এখনো কাঁচা রয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন তানোর ও মোহনপুর উপজেলার সাধারণ মানুষ।বিলের মাঝখানে মাটির রাস্তাটি অপরিকল্পিতভাবে তৈরির ফলে প্রতিবছর বন্যায় তা ভেঙে যায়। অভিযোগ রয়েছে, গত ১০ বছরে কয়েক দফায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা সংস্কার কাজে ব্যয় হলেও রাস্তার অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। সেতুর একদিকে পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজার এবং অন্যদিকে মোহনপুর উপজেলার শ্যামপুর বাজার। সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় দুই এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং একসময়ের জনপ্রিয় এই পর্যটন এলাকায় দর্শনার্থীর সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নুরুন্নাহার বলেন, সড়কটি পাকাকরণের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। আগে প্রতিবছর বন্যায় রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হতো বলে পাকাকরণ সম্ভব হয়নি। তবে গত দুই বছর ধরে রাস্তাটি আর না ভাঙায় আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই পাকাকরণের কাজ শুরু হবে।