
বড়াইগ্রামে আইন নিজের হাতে, অভিযোগে চারজনকে বেঁধে মারধর
মোঃ সুজন মাহমুদ, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানাল পুলিশ
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় গহনা নেওয়া–দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই নারীসহ একই পরিবারের চারজনকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বড়াইগ্রাম পৌর এলাকার মৌখাড়া কদমতলা মহল্লায় স্থানীয় এক সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে বিদ্যুতের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তবে ভিডিওটি বৃহস্পতিবার বিকেলে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়াইগ্রাম পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালফা কদমতলা এলাকার বাসিন্দা বাদশার স্ত্রী প্রতিবেশী মতিন সরকার ও জুয়েলের স্ত্রী এবং টুটুলের মায়ের কাছ থেকে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে কিছু স্বর্ণালঙ্কার ধার নেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১২ দিন অতিবাহিত হলেও তিনি গহনাগুলো ফেরত দেননি। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।
বুধবার দুপুরে গহনা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে সংশ্লিষ্টদের স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে বিদ্যুতের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত কয়েকজন বাদশা, তার স্ত্রী, বাবা ও শাশুড়িকে একটি ঘরে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। একপর্যায়ে তাদের মারধর করা হয় এবং পরে দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিদ্যুতের বাড়ির সামনে ভিড় করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, চারজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং আশপাশে উৎসুক জনতা দাঁড়িয়ে রয়েছে। পরে ধার নেওয়া গহনা ফেরত দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। আইনজীবীদের মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জানানোই ছিল সঠিক পদ্ধতি; নিজেরাই আইন হাতে তুলে নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আগে অবগত ছিলাম না। পরে শুনেছি, যারা বেঁধে রেখেছিল তারা ছেড়েও দিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।