
নাটোরে ডাক্তার আমিরুল ইসলামের গলা কাটা লাশ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
নাটোর:
নাটোর জেলায় চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা ঘটেছে। জেলার সুপরিচিত চিকিৎসক, নাটোর জনসেবা হাসপাতালের মালিক, ডাক্তারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নাটোর জেলা শাখার সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নাটোর জেলা সভাপতি শ্রদ্ধাভাজন ডাক্তার এ এইচ এম আমিরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে।
নাটোর মাদ্রাসা মোড় এলাকায় অবস্থিত তাঁর নিজস্ব হাসপাতাল ভবন থেকে গলা কাটা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো তিনি হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে কর্মচারীরা তাঁর কক্ষে প্রবেশ করে ডাকাডাকি করেন। এক পর্যায়ে তারা কক্ষে প্রবেশ করে ডাক্তার আমিরুল ইসলামের গলা কাটা লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলার চিকিৎসক সমাজ, সহকর্মী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
ড্যাব, বিএমএ এবং প্রাইভেট হাসপাতাল অনার্স অ্যাসোসিয়েশন নাটোর জেলা শাখা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন—
“আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। প্রয়াত ডা. আমিরুল ইসলামের অবদান নাটোরবাসী আজীবন স্মরণ করবে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”
নাটোর জেলা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। তবে হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
উল্লেখ্য, ডা. এ এইচ এম আমিরুল ইসলাম নাটোর জেলার স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছিলেন। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর মানবিক সেবামূলক মনোভাব এবং নেতৃত্বগুণে তিনি জেলার চিকিৎসক মহল ও সাধারণ মানুষের কাছে সমানভাবে সম্মানিত ছিলেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নাটোর জেলায় শোকের ছায়া ফেলেছে এবং পুরো চিকিৎসক সমাজ আজ শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।