
দিনাজপুরের বিরামপুরে অতিরিক্ত ভাড়ার চাপে বিপাকেবিরামপুরের রোগীরা
মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা যায়, বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবায় নানা অনিয়ম, হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলে বাধ্যতামূলকভাবে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের জন্য ২,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
অভিযোগকারীরা জানান, অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স ফাঁকা ও ড্রাইভার উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তিনি রোগীদের সেবা দিতে অনীহা দেখান। এতে জরুরি মুহূর্তে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
এছাড়া রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে অসদাচরণ করার অভিযোগও রয়েছে ড্রাইভার মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
ঘটনার সত্যতা জানতে রবিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবেদক পরিচয় গোপন রেখে রোগীর স্বজন সেজে ড্রাইভারকে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জানতে চান। ড্রাইভার ভাড়া জানান ২,৫০০ টাকা। সরকারি ভাড়া কত জানতে চাইলে তিনি জানান, “সরকারি রেট নেই, পাম্প তেল দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। লিটারে ৫–৬ কিলোমিটার হিসেবে খরচ দিতে হবে”।
ড্রাইভার আরও বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের খরচ বেশি, কারণ পেট্রোল গাড়ি, খরচ বেশি হয়। বাংলাদেশে সব সরকারি গাড়ি লিটারে ৬ কিলোমিটার চলে। পাম্পে ৯ লাখ টাকা বকেয়া আছে। পাবলিক গাড়ি তুলনামূলকভাবে সস্তা, ২,২০০ টাকায় যাওয়া সম্ভব।
যদি স্বজনরা নিজেই টাকা দিয়ে তেল তোলেন, ড্রাইভার জানান, যাতায়াতের জন্য ২৩ লিটার তেল প্রয়োজন, খরচ ২৭–২৮শ টাকা হবে।
একই দিনে বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সিরাজুল ইসলাম নামে এক রুগিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলে, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকা সত্ত্বেও ড্রাইভার তাকে নিতে অস্বীকার করেন। রুগির স্বজন মোছা রোকছানা পারভীন জানান, “আমি তেল খরচ দিতে চাইছিলাম, তারপরও ড্রাইভার একেবারেই যাননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার বলেন, বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ৯০০ থেকে ১১০০ টাকার পের্টোল যেতে পারে। তবে এত টাকার তেল যাওয়া কোনোভাবে সম্ভব না। আমার গাড়ি গ্যাস দিয়ে চলে মেডিকেল গেলে যাতায়াত ৭ থেকে ৮০০ টাকার গ্যাস যায়।
বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান এ বিষয়ে বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা ছিল না। এ ধরনের বিষয়ে কেউ আগে অভিযোগও করেননি। আপনি যদি অভিযোগ দেন, আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া দূরত্ব অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। আমাদের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১০ টাকা নির্ধারিত।