
টঙ্গীতে কনসেপ্ট পোশাক কারখানায় ফের শ্রমিক অসুস্থ
আশিকুর রহমান :
গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন এলাকায় মাস্কো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনসেপ্ট পোশাক কারখানায় আবারও শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে কাজে যোগদানের পর হঠাৎ করে একাধিক শ্রমিক মাথা ঘোরা, বমি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। ঘটনার পরপরই অসুস্থ শ্রমিকদের টঙ্গীর ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অধিকাংশ শ্রমিক সুস্থ হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের বরাতে জানা গেছে, সকালবেলা নিয়মিত কাজ শুরুর কিছু সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের মধ্যে একের পর এক অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দেয়। হঠাৎ শ্রমিকরা মাথা ঘোরা ও বমি করতে শুরু করলে কাজের ফ্লোরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অসুস্থ শ্রমিকদের অধিকাংশই বমি, মাথা ঘোরা ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়।
এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইকবাল চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার ভেতরে কোথাও গ্যাস লিকেজ বা তীব্র গন্ধের কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। এ ধরনের ঘটনায় মাথা ঘোরা ও বমির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তবে বিস্তারিত পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এদিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন খান বলেন, ঘটনার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শ্রমিকরা কী কারণে অসুস্থ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এডমিন ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ নাকচ করে বলেন, এটি এক ধরনের গুজব থেকে সৃষ্ট ঘটনা। আমাদের প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার মতো কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। আমরা সব সময় শ্রমিকদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সহযোগিতা করে থাকি। বেতন বা অন্য কোনো বিষয়ে এখানে কখনো অসন্তোষ দেখা যায়নি। তবুও বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর একই কারখানায় হঠাৎ করে প্রায় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময়ও বহু শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটায় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
ঘটনার পর থেকে কারখানা ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। শ্রমিক ও স্থানীয়দের দাবি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।