
কুষ্টিয়ায় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বেধড়ক পিটুনিতে কোচিং শিক্ষক গুরুতর আহত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুষ্টিয়ায় কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন আশিকুর রহমান (২৮) নামের এক যুবক। তিনি স্থানীয় ইকোনমিকস হাব নামের একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক। এ ঘটনায় তাঁর মাথায় ১৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুপুরে আশিকুর রহমান কলেজে তাঁর কোচিং সেন্টারের লিফলেট বিতরণ করছিলেন। এ সময় কলেজ ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাঁকে লিফলেট বিতরণ করতে নিষেধ করে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শিমুল হোসেনের অনুসারী রাফির নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে ইট ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। আশিকুর দৌড়ে পালিয়ে রিকশায় উঠলেও সেখানে তাঁকে আবারও পেটানো হয়। পরে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশিকুর রহমান জানান,
আমি ভদ্রভাবে কথা বলার অনুরোধ করলেও তারা হঠাৎ আক্রমণ করে। নিরাপত্তার কারণে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছি।”
তিনি জানান, হামলাকারীদের মধ্যে তিনি শুধু রাফিকে চিনেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শিমুল হোসেন বলেন,
কলেজের পোশাক পরা কয়েকজন ছেলে আশিকুরকে ঘিরে ধরে মারধর করছিল। আমি ঠেকাতে গেলে নিজেই পড়ে যাই। বিষয়টি ভুলভাবে প্রচার করা হচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত রাফি এখন ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত।
এদিকে, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির হোসেন বলেন,
বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মোশাররফ হোসেন জানান,
“ঘটনা শুনেছি। এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, মাসখানেক আগে রাফি ও তার সহযোগীরা জেলার এক ছাত্রনেতাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছিল। কলেজে কিশোর গ্যাংয়ের বড় একটি গ্রুপ রাফির নিয়ন্ত্রণে, এবং তার বাইরে গেলে শিক্ষার্থীদের মারধরসহ নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
স্থানীয় সূত্র প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে সংগৃহীত তথ্য।