
আত্রাই-রানীনগরের প্রাক্তন সংসদ সদস্য মোল্লা আব্দুল মজিদের কৃতিত্ব স্মরণ
মোঃ এখলাস হোসাইন
নওগাঁ (আত্রাই) প্রতিনিধি:
নওগাঁ জেলার আত্রাই-রানীনগর এলাকার প্রাক্তন সংসদ সদস্য জনাব মোল্লা আব্দুল মজিদের জীবন ও কর্ম আজও এলাকাবাসীর কাছে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয়। ১৯৯৫ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি কোলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে আই.এ অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৬০-এর দশকে করাচী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.বি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মাত্র ৩০ বছর বয়সে আত্রাই-রানীনগর এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
তৎকালীন সময়ে সংসদ সদস্যদের জন্য ধানমন্ডিতে বরাদ্দকৃত প্লট গ্রহণের সুযোগ থাকলেও তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান, যা তার সততা ও আদর্শিক অবস্থানের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
তার পরিবারও রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সুপরিচিত। তার চাচা আহসানউল্লাহ মোল্লা ১৯৩০-এর দশকে একাধিকবার ব্রিটিশ লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন, যার নামানুসারে আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন, আহসানুল্লাহ স্কুল ও আহসানগঞ্জ পোস্ট অফিসের নামকরণ করা হয়। অপর চাচা মোসলেম আলী মোল্লা ১৯৩৫ সালে এম.এল.সি ও পরবর্তীতে এম.এল.এ নির্বাচিত হয়ে শ্যামা প্রসাদ মন্ত্রীসভায় দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তার চাচাত ভাই মোল্লা আবুল কালাম আজাদ ১৯৫৪, ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তার ভাতিজা মোল্লা রেজাউল ইসলাম ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
কর্মজীবনে মোল্লা আব্দুল মজিদ নওগাঁ জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বার কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি নওগাঁ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৫ম সংসদের ১৯তম অধিবেশনে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ও লিপিবদ্ধ হয়।
জীবদ্দশায় তিনি অসংখ্য জনহিতকর কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। আত্রাই-রানীনগর এলাকার সাধারণ মানুষ তার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।