গোপালগঞ্জে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগে মামলা, নাম বদলের বিস্তর অনিয়মের তথ্য ফাঁস।
নিজস্ব প্রতিবেদক: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে হিরু মোল্লা নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর নিজেকে “মতিয়ার রহমান” পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তদন্তে জানা গেছে, তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), সন্তানদের এনআইডি এবং জমির দলিলসহ সকল সরকারি কাগজপত্রে তার নাম হিরু মোল্লা থাকলেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ব্যবহৃত নথিতে নাম রয়েছে মতিয়ার রহমান। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট তালিকা যাচাই-বাছাই করা হয়। ভারতীয় তালিকা অনুসন্ধানে মতিয়ার রহমান নামে একজনের তথ্য পাওয়া গেলেও সেখানে শুধুমাত্র গোপালগঞ্জ জেলার নাম উল্লেখ রয়েছে; গ্রাম, ইউনিয়ন বা থানার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, যা হিরু মোল্লার পরিচয়ের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুটি পৃথক এনআইডি ব্যবহার করছিলেন বলেও জানা যায়। সম্প্রতি একটি স্থানীয় পত্রিকায় বিষয়টি প্রকাশিত হলে তিনি হিরু মোল্লা নামের এনআইডি কার্ডটি বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্গাপুর গ্রামে কখনোই মতিয়ার রহমান নামে কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব ছিল না। গ্রামবাসীরা একবাক্যে জানান, তিনি হিরু মোল্লা নামেই পরিচিত।
এ ঘটনায় পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক অলিউর রহমান শেখ বাদী হয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতেই আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি।”
স্থানীয় কয়েকজন মুরুব্বী—মেজবাহ মুন্সী, জাহাঙ্গীর শেখ, লিটন শেখ, দাউদ ফকির, কবির, চুন্নু শেখ, মুন্নু শেখ, এনায়েত শেখ, হিটু শেখ ও মাহতাব সরদারসহ আরও অনেকে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন।
এছাড়াও হিরু মোল্লা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অন্যের জমি দখল, হয়রানি, মিথ্যা মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।