সেনা সদস্যের স্ত্রীর আর্তনাদ: “ঘরের ভেতরে ঢুকে ইজ্জত লুণ্ঠনের চেষ্টা, আমি বিচার চাই”
মাহবুব আলম জুয়েল,
সাদুল্লাপুর, মগরাহাট (বাগেরহাট)
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্যের স্ত্রী দাবি করেছেন, স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি তার বাড়িতে ঢুকে মারধর, লুটপাট ও ইজ্জত লুণ্ঠনের চেষ্টা চালিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার পরও উল্টো তার নামেই মিথ্যা মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে, বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামে।
ভুক্তভোগী জানান, তার স্বামী বর্তমানে কুয়েতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু দেশে তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার দিন সকালে স্থানীয় মাজেদ খাঁ (গ্রাম সভাপতি), ওয়াজেদ খাঁ ও আরও কয়েকজন মিলে জোর করে তাদের ঘরে প্রবেশ করে।
তিনি বলেন,
“আমি বাধা দিলেও তারা আমার ঘরে ঢুকে আমাকে ও আমার অসুস্থ শ্বশুর-শাশুড়িকে মারধর করে। তারা আমার গলা থেকে এক ভরি স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা আমাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে এবং আমার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে।”
ভুক্তভোগী ২০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে থানায় মামলা করেন। কিন্তু তার অভিযোগ—এরপরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দেয় এবং দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায়।
তিনি বলেন,
“পুরো ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে আছে। ১৮ অক্টোবরের লাইভ ভিডিও সবাই দেখেছে। তারপরও থানায় আমার নামেই মিথ্যা মামলা নেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে আমি নাকি মাজেদ খাঁকে রাস্তায় পেয়ে মারধর করেছি! অথচ সেই দিন সকালেই তারাই দলবল নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।”
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে থানার ওসি অভিযুক্তদের পক্ষে পাল্টা মামলা গ্রহণ করেছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন—
“ভিডিও প্রমাণ, সাক্ষী, ঘটনার লাইভ—সবকিছু থাকা সত্ত্বেও আমার নামে মামলা নেয়া হলো কেন? তাহলে কি দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ এখনো হয়নি?”
তিনি আরও বলেন,
“আমার স্বামী দেশের বাইরে জাতিসংঘ মিশনে কাজ করছেন, দেশের মান রক্ষা করছেন। অথচ দেশে তার স্ত্রী ও পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আইন কি শুধু প্রভাবশালীদের জন্য?”
এ বিষয়ে জানতে থানার ওসি’র বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিও ফুটেজ।
ভুক্তভোগী প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
ঠিকানা:
গ্রাম: সাদুল্লাপুর
ডাকঘর: মগরাহাট
উপজেলা ও থানা: বাগেরহাট
জেলা: বাগেরহাট
এই প্রতিবেদনের সব তথ্য ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্থানীয় সূত্র এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে সংগৃহীত। পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা হালনাগাদ করা হবে।