বিএনপির প্রচারণায় আসা আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতারের দাবিতে থানা ঘেরাও।
নিজস্ব প্রতিবেদক
সেলিম রেজা
মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপিবিএনপির প্রচারণায় আসা আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতারের দাবিতে থানা ঘেরাওর প্রার্থী নাদিরা আক্তার মিঠু চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যে আসেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের গ্রেফতারের দাবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে শিবচর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জুলাই যোদ্ধারা।
শিবচর থানার সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় তারা আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতারের দাবিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
শিবচর পৌরসভার খান বাড়িতে অনুষ্ঠিত বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তার মিঠু চৌধুরীর উঠান বৈঠকে উপস্থিত হয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোটও প্রার্থনা করেন।
একাধিক সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আগমন ও আসন্ন নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তোলেন শিবচরের জুলাই যোদ্ধারা। পরে তারা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানাতে থানায় সামনে বিক্ষোভের ডাক দেন।
এ সময় ব্যানার ফ্যাস্টুন হাতে নিয়ে অর্ধশত জুলাই চেতনাধীরা যোদ্ধারা থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের কাছে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ ছাড়াও আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্যে আসা নেতাদের গ্রেফতার না করা হলে ৫ হাজার লোক নিয়ে থানা ঘেরাও করার ডাক দেয়া হয়।
জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন শাহাদাত হোসেন মিশন। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করে ওসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। ২৪ ঘণ্টা সময় আমরা ওসিকে দিয়েছি। এর মধ্যে যদি প্রকাশ্যে আসা আওয়ামী দোসরদের গ্রেফতার করা না হয় তাহলে ৫ হাজার লোক নিয়ে আমরা থানা ঘেরাও করবো। এটাই আমাদের কর্মসূচি। আমরা প্রশাসনের কাছে জবাব চাই। দীর্ঘ ১৭ বছর যারা স্বৈরাচার ছিলেন তারা কিভাবে প্রকাশে এসে রাজনীতি করে? এটা কোন ভাবেই শিবচরের জনগণ মেনে নিবে না।’
জানতে চাইলে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিক্ষোভকারী নিজেদের জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তারা আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের যারা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় হয়েছেন, তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের স্মারকলিপি আমরা গ্রহণ করে আশ্বস্ত করেছি, যারা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্ত বা যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
বিএনপির উঠান বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌকা প্রতীক নিয়ে একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক পৌর মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিএম আতাহার বেপারি, ফাহিমা আক্তার, কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল বেপারীসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক কাউন্সিলর ও নেতৃবৃন্দ৷