বড়াইগ্রামে মোবাইল চুরির ঘটনায় কিশোর সমাজের অবক্ষয় নিয়ে সচেতনতা সভা।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের দ্বারিকুশী গ্রামে এক মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় সমাজের কিশোরদের অবক্ষয় ও সচেতনতা বিষয়ে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে একটি মিটিংয়ের আয়োজন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর দ্বারিকুশী গ্রামের খাইরুলের ছেলে ইয়ালিদ জোনাইল বাজার থেকে আহাদ নামের এক তরুণের এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন চুরি করে। বাজারে দায়িত্ব পালনরত নাইট গার্ড দ্রুত ঘটনাটি টের পেয়ে ইয়ালিদকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে নিজেকে বাঁচানোর জন্য ইয়ালিদ, সালামের ছেলে হুসাইন, ইসাহকের ছেলে রিফাত এবং তার প্রতিবেশী তুহিনের নাম জড়িয়ে দেয়। তবে ২৪ সেপ্টেম্বর তদন্ত ও খোঁজখবরের পর প্রমাণিত হয়, উল্লিখিত তিনজন সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং চুরির সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেবল নিজের অপরাধ আড়াল করার জন্য ইয়ালিদ তাদের নাম উল্লেখ করে।
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষক ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে একটি সচেতনতামূলক মিটিং করেন। সেখানে তাঁরা নির্দোষ তিন কিশোরকে সান্ত্বনা দেন এবং যুবসমাজকে অপরাধ ও বিভ্রান্তির পথে না গিয়ে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার আহ্বান জানান।
মিটিংয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমানে কিশোর সমাজ নানাভাবে অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। নেশা, অবাধ স্বাধীনতা, সামাজিক দায়িত্ববোধের অভাব ও প্রযুক্তির অপব্যবহার তাদের ভুল পথে ঠেলে দিচ্ছে। এ ধরনের ছোটখাটো অপরাধ ভবিষ্যতে বড় অপরাধে রূপ নিতে পারে, যা পরিবার ও সমাজের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এসময় উপস্থিত ব্যক্তিরা ইয়ালিদসহ সকল কিশোরকে শিক্ষা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকে সুন্দর জীবন গঠনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে তরুণদের প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের সচেতনতামূলক মিটিং নিয়মিত আয়োজন করা হলে কিশোর অপরাধ অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে।