আত্রাইয়ে বহুল আলোচিত গরু-ছাগলের বিশাল আহসানগঞ্জ হাট।
মোঃ এখলাস হোসাইন
নওগাঁ আত্রাই প্রতিনিধি
নওগাঁ আএাই উপজেলার সেই বিক্ষ্যাত আহসানগঞ্জ হাট। আহসানগঞ্জ হাট একটি ঐতিহ্যবাহী ও ব্যস্ততম গ্রামীণ বাজার। এটি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে বসে এবং আশেপাশের এলাকার কৃষিপণ্য ও গবাদি পশু বেচা-কেনার প্রধান কেন্দ্র।নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলা আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এবং আত্রাই নদীর বেশ কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় যাতায়াত অত্যন্ত সহজ।হাটের বৈশিষ্ট্য ও পণ্যবার ব্যাবহারের দিক থেকে হাটটি মূলত সপ্তাহে নির্দিষ্ট বারে বসে, তবে বিশেষ করে বৃহস্পতিবার টাটকা শাকসবজি এবং অন্যান্য সামগ্রীর জন্য এটি জনপ্রিয়।এছাড়াও এই আহসানগঞ্জ হাটে পাওয়া যায় হরেক রমের পিঠা-পায়েস।পাশেই বেচা-কেনা চলছে পশুর হাট এই হাটে নিয়মিতভাবে গবাদি পশু (গরু ও ছাগল) বেচাকেনা হয়।স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য, পেঁয়াজ, চাল, ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য দ্রব্যাদি পাওয়া যায়।আহসানগঞ্জ হাটের বর্তমান গবাদি পশুর দরদাম ও বেচা কেনায় ব্যাস্ত সময় পার করছে।ঈদ উপলক্ষ্যে আগামী মুংলবার (২৫ মে)ঈদের হাট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়।
সাধারন জনগন আগামী মুংলবার এই আহসানগঞ্জ হাট অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষনা দেওয়ায় সবাই সাধুবাদ জ্ঞ্যাপন করেছেন।
নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ঐতিহাসিক আহসানগঞ্জ হাটটির ইতিহাস জানা যায় প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো। তবে এর সঠিক সূচনা বা প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট সাল নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি নথিপত্র বা প্রমাণ পাওয়া যায় না, যা মূলত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি গ্রামীণ হাট আহসানগঞ্জ হাট হিসেবে পরিচিত।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আহসানগঞ্জ পশুর হাটসহ উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাট জমে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। কোরবানির গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ায় জমজমাট পুরো হাট এলাকা।
সপ্তাহের শুক্রবার বান্দাইখাড়া হাট, শনিবার ভবাণীপুর হাট, রোববার শুকটিগাছা হাট ও বৃহস্পতিবার ঐতিহ্যবাহী আহসানগঞ্জ হাট। এসব হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটের নির্দিষ্ট স্থান কোরবানির পশুতে ঠাসা। একচুল জায়গাও খালি নেই। ট্রাক, মিনি ট্রাক ও নছিমনে করে দূরদূরান্তের খামারি ও ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে এসেছেন।
এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এসব গরুর দাম ৮০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ ২০ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে।
হাটে গরু কিনতে আসা একজন বলেন, আমি ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় একটি মাঝারি গরু কিনেছি। গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা কম-বেশি বুঝে উঠতে পারলামঅনা।
ছাগল কিনতে আসা মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি একটি মাঝারি আকারের ছাগল নিতে এসেছিলাম। পছন্দ হওয়ায় ২৭ হাজার টাকায় দিয়ে ছাগল কিনেছি। যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম-বেশি মনে হচ্ছে।
বিক্রেতারাও জানিয়েছেন, এবার ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। একই সঙ্গে ছাগলের চাহিদাও বেড়েছে। প্রতিটি ছাগল বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকায়।
আহসানগঞ্জ হাটের ইজারাদার আলহাজ্ব মো. আজাদ হোসেন জানান, এ বছর প্রচুর গরু উঠেছে হাটে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যেন কেউ প্রতারণার শিকার না হন।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। হাটে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে ক্রেতা ও বিক্রেতারা নিশ্চিন্তে কেনাবেচা করতে পারেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো.মুনিরুজ্জামান জানান, কোরবানির পশু হাটগুলোতে প্রশাসনের পক্ষে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এই ঈদ মৌসুমে গরু-ছাগলের বাজার নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে উৎসাহ। নিরাপদ ও স্বচ্ছ বাণিজ্যের প্রত্যাশা করছি